২৫শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ১০ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

দীর্ঘ ৮৮ বছর পর কিউবা সফরে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা

সোমবার, ২১ মার্চ ২০১৬

টেকনাফবার্তা২৪ডটকম 

obamaআন্তর্জাতিক ডেস্ক : দীর্ঘ ৮৮ বছর পর, প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে কিউবা সফরে গেলেন ওবামা। হাভানায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান, কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ। এ সফরকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে, তা দুই দেশের মানুষের মেলবন্ধন তৈরির অনন্য সুযোগ তৈরি করবে বলে মন্তব্য করেছেন ওবামা।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ সফরে কিউবার ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে বলে আশা করেন কিউবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে মাত্র ১শ’ ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে, স্থানীয় সময় রোববার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে ওবামাকে বহনকারী বিমানটি হাভানার হোসে মার্তি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্পর্শ করে।

এর সঙ্গে সঙ্গেই এক ঐতিহাসিক যুগের সূচনা হলো। তবে, বৃষ্টিস্নাত হাভানায় ওবামার সফরের শুরুটা কূটনীতিকদের চোখে যেনো কিছুটা দৃষ্টিকটু-ই মনে হলো। ওবামাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে আসেননি কিউবান প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ট্রো। তাকে অভ্যর্থনা জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ।

সপরিবারে হাভানায় পৌঁছার ঘণ্টা দুয়েক পর মার্কিন দূতাবাসে যান ওবামা। সেখানে কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতে নিজের এ সফরকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ‘১৯২৮ সালে প্রেসিডেন্ট কুলিজ জাহাজে করে তিন দিনে কিউবায় এসেছিলেন, আর আমি মাত্র তিন ঘণ্টায় পৌঁছালাম। এ এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এটি দুই দেশের মানুষের মেলবন্ধন তৈরির দারুণ সুযোগ। আশা করি, অতীতের চেয়ে আমাদের ভবিষ্যৎটা আরও সুন্দর হবে।’

পরে, কিউবার পুরনো শহর হাভানা ভিযা’য় যান ওবামা। স্ত্রী মিশেল ও দুই কন্যা মালিয়া ও শাসাকে নিয়ে শহরটির ঐতিহাসিক কিছু স্থাপনা ঘুরে দেখেন তিনি।

ওবামার তিন দিনের এ সফর উপলক্ষে হাভানাজুড়ে কড়া নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নেয়া হয়। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের সর্ববৃহৎ দেশটির সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাসও ছিলো চোখে পড়ার মতো।

কিউবা বিপ্লবের নেতা, সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিদেল ক্যাস্ট্রোর সঙ্গে সাক্ষাতের কর্মসূচি না থাকলেও সোমবার প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ট্রোর সঙ্গে বৈঠক করবেন ওবামা। কিউবার বাণিজ্য ফোরাম ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে তার। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা ৫৪ বছরের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, কিউবার উন্নয়নে বড় বাধা- উল্লেখ করে ওবামার এ সফরের মাধ্যমে কিউবার ওপর থেকে মার্কিন বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে বলে আশাবাদ, দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের।

কিউবা বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়কমন্ত্রী রদ্রিগো ম্যালমিয়েরকা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের ব্যাংকগুলো লেনদেন করতে পারে না। কিউবায় যোগাযোগ-খাত ছাড়া কোনো ক্ষেত্রে মার্কিন বিনিয়োগের সুযোগ নেই। আমাদের কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করতে পারে না। এসব সমস্যা এবার দূর হবে বলে আশা করি।’

এদিকে, ওবামার সফরের কয়েক ঘণ্টা আগে, হাভানায় বিক্ষোভ করেছেন মার্কিন-বিরোধীরা।

এ সফরকে তিন দিনের বলা হলেও কিউবায় ৪৮ ঘণ্টা অবস্থান করবেন ওবামা। ১৯৬২ সালে কিউবা সংকটকে ঘিরে সৃষ্ট সম্পর্কের শীতলতা কাটিয়ে, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের বিষয়ে সম্মত হন। পরে গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবায় পারস্পারিক দূতাবাস পুনরায় চালু হয়।

বিমানবন্দরে কিউবার প্রেসিডেন্ট স্বাগত না জানানোয় ট্রাম্পের সমালোচনা

কিউবায় ওবামাকে স্বাগত জানাতে দেশটির প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ট্রো বিমানবন্দরে না আসায়, ওবামার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসা উচিত ছিলো বলে মন্তব্য করেছেন রিপাবলিকান মনোনয়ন-প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার ফ্লোরিডার পাম বিচে নির্বাচনী প্রচারণার এক নৈশ-ভোজে অংশ নিয়ে এমন মন্তব্য করেন মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকা এ আবাসন ব্যবসায়ী।

এর আগে, কিউবান প্রেসিডেন্টের এমন আচরণ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপমানজনক উল্লেখ করে টুইট করেছিলেন ট্রাম্প।

রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন-প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘কিউবায় আমাদের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ট্রো কিংবা তার ভাই ফিদেল কেউ-ই বিমানবন্দরে আসেননি। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের জন্য এটি সত্যি-ই অপমানজনক। ওবামার উচিত ছিলো কিউবানদের বিদায় জানিয়ে তখন-ই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসা। ওবামা তাদের কয়েক দশকের জন্য বিদায় জানাতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা না করে তাদের সঙ্গে করমর্দন করে গাড়িতে উঠে বসলেন।’

টেকনাফ বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য




Leave a Reply

Your email address will not be published.