২৫শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ১০ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

সাংসদ বদিকে খন্দকার মোস্তাক আখ্যায়িত করে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের বিবৃতি

রবিবার, ২৭ মার্চ ২০১৬

cox satrolegটেকনাফবার্তা২৪ডটকম : বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জেলা ব্যাপী সকল ক্যাম্পাস, উপজেলা ও পৌরসভায় সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করার পাশাপাশি সাংগঠনিক সকল প্রকার কর্মসূচী ধারাবাহিকভাবে পালন করে আসছি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন-২০১৬ইং এর ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১ম ধাপের নির্বাচনে কক্সবাজার জেলার ১৯টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার ভোটগ্রহণ ২০শে মার্চ শুরু হয়ে ২৭ শে মার্চ সম্পন্ন হয়। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ- কাউন্সিলর, ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। যাদের মধ্যে অনেকেই বিজয়ী এবং বিজীত হয়েছে।

আমরা কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে সমন্বয় করে আমাদের দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ের পথ সুগম করতে নির্বাচনী আচরণ বিধি মোতাবেক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। জেলার অন্যান্য উপজেলায় আমরা স্থানীয় আওয়ামীলীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং জণপ্রতিনিধিদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা পেলেও ব্যতিক্রমধর্মী অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হই উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায়। উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থীদের বিপক্ষে গিয়ে বিরোধী প্রার্থীদের পক্ষে পরোক্ষভাবে সমর্থন দিয়ে টেকনাফ উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিতে দলীয় প্রার্থীদের পরাজিত করে। দলের অভ্যন্তরে থেকে সাংসদ বদি আওয়ামীলীগ বিদ্বেষী আচরণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের ব্যাপক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে।

উপরোক্ত দুই উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দদের চরম অসহযোগিতা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত করে নানা ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে। বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত সাংসদ আব্দুর রহমান বদির আচরণ সম্পর্কে আমরা আমাদের উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দদের অবহিত করার পর তাকে ছাত্রলীগের সকল ক্ষেত্রে অবাঞ্চিত ঘোষণা করি। ২৭শে মার্চ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয় সহ ৮জনের সাংগঠনিক দল নিয়ে হোয়াইক্ষ্যং ইউনিয়নে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে গেলে আমি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও সকল স্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ ও সর্বশেষ নির্বাচনী পরিস্থীতি পর্যবেক্ষণ করার দায়িত্ব পালনে কক্সবাজার জেলা শহরে অবস্থান করি। সকাল ১১টার দিকে আমরা খবর পাই সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয়কে প্রশাসনিকভাবে হেনস্থা করতে তৎপর হয়ে ওঠে খন্দকার মোস্তাক খ্যাত সাংসদ বদি।

এ বিষয়ে আমরা অবগত হওয়ার স্বল্প সময়ের মধ্যে সাংসদ বদি প্রশাসনের এক বিশেষ বিভাগকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্ররোচিত করে এবং ইশতিয়াক আহমেদ জয়সহ আটজনকে আটক ও শারীরিক নির্যাতনপূর্বক হেনস্থা করে। ওই সংবাদে জেলা ব্যাপী বিক্ষুব্দ ছাত্রসমাজ রাজপথে নেমে এসে প্রতিবাদী মূখর হয়ে উঠলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ চারজনকে ছেড়ে দিলেও বাকি চারজন নেতাকে টেকনাফ থানা পুলিশকে সোপর্দ করে। আপনাদেরকে স্মরণ করে দিচ্ছি, সাংসদ বদি বিগত এক সপ্তাহ ধরে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতিকে বিভিন্ন মাধ্যমে অনবরত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। যা প্রিন্ট ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আপনারা জানেন- বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ইতিহাসের নির্ধারিত গতিপথে হাঁটে না। ছাত্রলীগ ইতিহাস সৃষ্টি করে চলার পথ তৈরি করে। অপশক্তি ও সমাজ শত্রু বিনাশে ছাত্রলীগ রক্তাক্ত বিপ্লবের নাম। আমরা সাংগঠনিকভাবে সব ক্ষেত্রে অবহিত করছি যে- অতি দ্রুত সময়ে আটক নেতাদের মুক্তি এবং মাদক ব্যবসায়ী ও দূর্নীতিগ্রস্থ সাংসদ বদির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছি। আমাদের দাবী পূরণ না হলে জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দদের নির্দেশনা অনুসরণ করে কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করতে বাধ্য হবো। যার দায়-দ্বায়িত্ব নিতে হবে প্রশাসনকে।

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

নিবেদক: ইমরুল হাসান রাশেদ

সাধারণ সম্পাদক

কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ।

টেকনাফ বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য




Leave a Reply

Your email address will not be published.