২৫শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ১০ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

পরিস্থিতি

মঙ্গলবার, ০৩ মে ২০১৬

টেকনাফবার্তা২৪ডটকম

golpoসাহিত্য ডেস্ক : জ্যা, জন, জয় আর জিত ওরা চারজন বন্ধু একসাথে হাঁটছিল ওদের সবার বাড়ির পাশের একটা ছোট্ট বনের রাস্তা ধরে। চারজন একসাথে একই টিমে খেলে ওরা আর আজকের ম্যাচে জিতে এখন বাড়ি ফিরছে। আনন্দে একজন আরেকজনের সাথে ধাক্কাধাক্কি করছে একে অপরের সাথে। জ্যা জনকে ধাক্কা দিচ্ছে, জন দিচ্ছে জয়কে, জয় জিতকে মাঝে মাঝে সবাই একসাথে দিচ্ছে। এভাবে হঠাৎ জনকে একটা জোরে ধাক্কা দিলো জয়। জন পড়ল পাশে ঝোপের ধারে, পড়ে তেমন ব্যথা পায় নি সে কিন্ত মাথায় কি যেন লাগায় পিছন ফিরে দেখল একটা ড্রামের মতন বাক্স পড়ে আছে। ওকে তুলতে সবাই দৌড়ে এলো, জন ওদেরকে দেখাল ওটা।

একজন আরেকজনকে খুলে দেখতে বলছে কিন্তু কেউ খুলতে যাচ্ছে না।

জ্যা বলল, “আমাদের এদিকে নাকি পাইরেটস এসেছিল দ্যাখ হয়ত গুপ্তধন হবে”।

ওর দেখাদেখি জয় আর জিত জনকে বলল, “দেখি চল কি আছে”।

জন আর বাকিরা সবাই সামনে বসে টেনে আনল বাক্সটা। তালা ছিল একটা জং ধরা কিন্তু ইট দিয়ে কয়েকটা আঘাত করতেই ভেঙে গেল। জন আস্তে আস্তে খুলল ডালাটা, ভেতরে দেখেই ওদের চোখগুলো ছানাবড়া। একটা বীভৎস লাশ কেটে রাখা ওখানে।

“হাত পা কাটা ছিল, পুরো বডির কোন অংশ কাটা বাদ রাখেনি খুনি। নির্দয় খুনি ছিল। লাশটা একটা মেয়ের বলে সনাক্ত করেছে ডাক্তার।” বললেন পুলিশের সদ্য জয়েন করা অফিসার জেফ জেকসন।

সামনের টেবিলে বসে আছেন জেফের বয়সের দ্বিগুণ পুলিশের সিনিয়র অফিসার হারবি মেসন। কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন তিনি।

“দ্যাখো জেফ আমাদের এই এলাকাটা এতদিন পর্যন্ত সবচাইতে নিরাপদ আর কম অপরাধের এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল এটা তুমি জান। কিন্তু এখন এমন কিছু ঘটনা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অফিসার নাহিদ আহসান কেসটা দেখবেন তুমি উনার সাথে থাকবে”।  বললেন হারবি। জেফকে ভালো করে চেনেন হারবি কারণটা হারবি নিজেই ওকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন আর হারবির অনেক কাছের বন্ধু জেমস হোমসের ছেলে জেফ। জেফকে নিজের ছেলের মত পছন্দ করেন উনি।

জেফ সম্মতিসূচক জবাব দিলো। ওকে নাহিদের সাথে দেখা করতে বললেন হারবি।

জেফ বের হয়েই সামনে বসে থাকা নাহিদ হাসানকে দেখতে পেলেন দাঁড়িয়ে কথা বলছেন ডাক্তারের সাথে, পাশে আসতেই ওকে ছোট্ট একটা হাসি উপহার দিলেন নাহিদ।

“লাশটার অবস্থা একদম খারাপ। প্রায় পচে গেছে অনেক কিছু। হাত আর পা গুলো কেটে রেখেছে এক সাথে। বডির নিচের অংশগুলো কেটেছে মাংস কাটার মত করে।   খুনিকে ভালো কসাই বলতে হয়, ব্যাটা প্রত্যেকটা অঙ্গ ফালা ফালা করে কেটেছে!” বললেন ডাক্তার রনবি।

“মেয়ের লাশ। কত বছর বয়সী হবে বলে মনে হয় আপনার?” জিজ্ঞেস করলেন নাহিদ।

“এই ধরুন বাইশ-পচিশ বছর হবে। ভিক্টিমের পরিচয় মিসিং রিপোর্ট  সেন্টার থেকে আর কিছুক্ষণের ভিতর এসে যাবে।” উত্তর দিলেন ডাক্তার।

“হুম লাশের যা অবস্থা করেছে চিনতে পারার বিষয় অনেক ঝামেলার”। বললেন নাহিদ।

জেফের দিকে ফিরে জিজ্ঞেস করলেন নাহিদ “ ছেলেগুলো কোথায়? এসেছে ওরা?”

“হ্যাঁ স্যার। রুমে আছে ওরা। সবার মা-বাবা এসেছে।’’ সোজা উত্তর দিলেন জেফ।

আশেপাশে বসে আছেন তিন জোড়া দম্পতি সাথে মাঝ বয়সী একজন মহিলা। সবার মাঝখানে একসাথে বসে আছে চারটি কালোমুখো ছেলে। ওরা যে কালো ঠিক তা নয়, পুলিশের কাছে আসতে হল বলেই এমন কালো মুখ করে বসে আছে জ্যা, জন, জয় আর জিত।

ভেতরে ঢুকলেন নাহিদ সাথে জেফ। কক্ষে চারজন রক্ষী সটান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, ওদের চোখগুলো ছেলেগুলোর দিকে অপলক তাকিয়ে আছে। অফিসারদের দেখতেই সবাই নড়েচড়ে বসল যেন, তিন জোড়া দম্পতির এক জন জনের মা মিসেস ক্রিস্টি বললেন, আমাদের ছেলেরা কিছুই তো করে নি ওদের তবুও এখানে আসতে হল কেন?

সবার দিকে একবার নজর দিয়ে মিসেস ক্রিস্টির দিকে চোখ রাখলেন নাহিদ। বললেন, “পুলিশি তদন্ত তো বুঝতে পারছেন আপনি একজন আইনের ব্যাক্তি আপনাকে নতুন করে বলার দরকার আছে বলে তো মনে হয় না!”  সোজাসাপ্টা উত্তর দিলেন অফিসার।

জিতের বাবা মল্লিক চ্যাটার্জি একজন ব্যবসায়ী, একটু রাগী মানুষ তাই বললেন অনেকটা রাগত স্বরে, “আপনাদের কাজ করার সময় হবে কখন! কি করবেন করুন!” এতো টুকু বলতেই পাশে বসে থাকা তার স্ত্রী মিসেস মল্লিকার কনুইয়ের গুঁতো খেয়ে চুপ করে গেলেন।

জেফ কিছু বলার আগে নাহিদ বললেন, “আমরা কাজ করার জন্য এখানে এসেছি! আপনাদের সবাই এই ব্যাপারে চিন্তিত আমি সেটা বুঝতে পারছি! দেখুন সবাইকে বলে রাখছি পুলিশের কাজ সম্পর্কে খারাপ ধারণা এখন রাখবেন না! কাজের কথায় আসি, তোমরা লাশ কিভাবে পেলে?”  ছেলেদের প্রশ্ন করা শুরু করলেন তিনি।

আধঘণ্টা পর ছেলেদের ছেড়ে দেয়া হল বলা হল শহরের বাইরে যেন কেউ না যায়। খুনের সাথে এদের জড়িত থাকার ব্যাপারটা মোটামুটি পরিষ্কার, এদের কেউ একাজ করে নি। ভিক্টিমের নাম পাওয়া গেছে, কিন্তু পুরো পরিচয় দিতে পারে নি! একই নামের তিনজন নিখোঁজ ঠিকানা একই কোন এক অজানা কারণে একজনের ঠিকানা পাওয়া যায় নি। দুটো ঠিকানা খুঁজে বের করতে গেলো জেফ! এদিকে মাংসের দোকানে গেলেন নাহিদ নিজে!

লেখক ঃ মোঃ শাওন

টেকনাফ বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য




Leave a Reply

Your email address will not be published.