১৬ই জুলাই, ২০১৯ ইং, ১লা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪০ তম মহাপ্রয়াণদিবস আজ

শনিবার,২৭ আগস্ট ২০১৬

টেকনাফবার্তা২৪ডটকম

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪০ তম মহাপ্রয়াণদিবস আজ

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪০ তম মহাপ্রয়াণদিবস আজ

যার কাব্যগানে জ্বলতো বিদ্রোহের আগুন, যিনি বাংলার মানুষকে দ্রোহে ও প্রতিবাদে সচল থাকার জন্য সবসময় অনুপ্রাণিত করেছেন এবং এখনো করছেন, সেই বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪০ তম মহাপ্রয়াণদিবস আজ।

বাংলাদেশের জাতীয় কবি ইসলাম ১৯৭৬ সালের আজকের দিনে (২৭শে আগস্ট) ধূলির ধরা ছেড়ে পাড়ি জমান অনন্তলোকে। কবির ইচ্ছে ছিলো মৃত্যুর পরও যাতে তিনি মসজিদ থেকেও যানের সুমধুর ধ্বনি শুনতে পান। তিনি লিখেছিলেন, “মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিয়ো ভাই/যেন গোর হতে মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই।
তার সেই ইচ্ছে অনুযায়ীই তিনি চিরশয্যায় শায়িত আছেন মসজিদেরই পাশে- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিয় মসজিদের পাশে। কিন্তু, বিদ্রোহী চেতনা তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন বাঙ্গালীর মন ও মন্ত্রে, যা চলমান আজও।
‘আমি চির বিদ্রোহী বীর/বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির উন্নত শির’ – ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সেই অমর পঙ্ক্তিতে বাঙালি এবং নিজের আত্মপরিচয়কে এভাবেই তুলে ধরেছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

মানবতা, প্রেম, দ্রোহ, চেতনার এই কবি নিজের ক্ষুরধার লেখনীর আঁচড়ে স্থান করে নিয়েছেন বিশ্বসাহিত্যে। গদ্য, পদ্য, উপন্যাস, সঙ্গীত- সব শাখায়ই তার আগমন ছিল ধূমকেতুর মতো। বাংলা সাহিত্যে তার আগমন প্রসঙ্গে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক গ্রন্থের উৎসর্গপত্রে লিখেছিলেন- ‘আয় চলে আয়রে ধূমকেতু/আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু, দুর্দিনের এই দুর্গশিরে উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন।’
১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (১৮৯৯ সালের ২৫ মে) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে কবি নজরুল ইসলামের জন্ম। কবির জীবনকাল ৭৭ বছরের। ১৯৪২ সালে অসুস্থ হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি সৃষ্টিশীল ছিলেন। এ সময়ের মধ্যে কবি শিল্প-সাহিত্যকে যা দিয়েছেন, তা বাংলা তথা বিশ্ব পরিমণ্ডলেই অমূল্য সম্পদ। কবির ডাক নাম ছিল দুখু মিয়া।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা, কবির স্মৃতিধন্য ময়মনসিংহের ত্রিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিত হবে নানা কর্মসূচি। শনিবার ভোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে কবির সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়েছেন কবির ভক্ত ও অনুরাগীরা। ঢাকায় বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দল নানা কর্মসূচি পালন করবে। বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশন ও বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। এ উপলক্ষে রোববার বিকাল ৪টায় বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে নজরুলবিষয়ক একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। একক বক্তৃতা দেবেন বিশিষ্ট গবেষক-প্রাবন্ধিক, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল আহসান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন প্রখ্যাত নজরুল গবেষক ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।
১৯৭২ সালের ২৪ মে স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। তাকে দেয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানসূচক ডি. লিট উপাধি দেয়। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারী একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে। কবির জীবনের শেষ দিনগুলো কাটে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে। ৭৭ বছর বয়সে সেখানেই ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট (১২ ভাদ্র) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
লুতফুল

টেকনাফ বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য