২৩শে মে, ২০১৯ ইং, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ই রমযান, ১৪৪০ হিজরী

টেকনাফে ভেজালে সয়লাব ইফতার বাজার

শুক্রবার, ০৯ জুন ২০১৭

জেড করিম জিয়া,টেকনাফ : রমজানের শুরুতেই টেকনাফ উপজেলার পৌরসভা সহ ৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইফতারসামগ্রী তৈরি ও খোলা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

ইফতার সামগ্রী বিক্রেতারা বিভিন্ন হাট-বাজার ও মোড়ে খোলা জায়গায় বাহারি ইফতারির পসরা বসিয়ে দেদারসে বিক্রি করছেন।  খোলা পরিবেশে ইফতারি বিক্রি করায় এর ওপর ধুলাবালি পড়ছে পাশাপাশি মশা-মাছি ও বসছে। অনেকটা উপায়হীন হয়েই সাধারণ মানুষ খোলাবাজারে ইফতারসামগ্রী কিনতে ঝুঁকে পড়েছে।

দেখা যায় ,প্রতিবছরের ন্যায় চলমান রমজান মাসেও এ অঞ্চলের অসাধু ব্যবসায়ী চক্র অধিক মুনাফা লাভের আশায় ভেজাল মিশ্রিত খাদ্য বিক্রি করায় জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনগুলো রহস্যজনক কারণে নিরব দর্শকের ভূমিকা নিয়ে এলাকার জনমনে নানাহ কথাবার্তা উঠেছে।
টেকনাফ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: টিটু চন্দ্র শিল জানান,এসব ইফতার সামগ্রী পেঁয়াজু, বেগুনি, ছোলা, হালিম, চপ, জিলাপি, খেজুর, এমনকি মুড়িতেও কোনো না কোনোভাবে ভেজাল সামগ্রী ব্যবহৃত হচ্ছে। এ খাবারে উপস্থিত ক্ষতিকর কার্সিনোজেনিক রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের ফলে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ স্বল্পমেয়াদী রোগে আক্রান্ত হতে পারে মানুষ। যা শরীরে প্রবেশ করে সৃষ্টি করছে রোগ, তাছাড়া বিষ ক্রিয়াসহ লিভার ও অন্ত্রে প্রদাহ এমনকি মরণব্যাধি ক্যান্সারও হচ্ছে।

জানা যায়,এ অঞ্চলের মুসলমানদের ধর্মীয় অনুসাশনের দিক থেকে রমজান মাস অনেকটাই গুরুত্বপূর্ন ও তাৎপর্যপূর্ন একটি মাস। এ মাসে ধনী-গরীব সবাই সিয়াম সাধনা পালন কালে ভেজালমুক্ত খাবারের কোন বিকল্প নেই। কিন্তু ধর্মীয় অনুসাশন কিংবা নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা না করে এলাকার কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী চক্র নানাহ পন্যের ব্যবসার আড়ালে ভেজাল পন্য বিক্রির মহোৎসব চালাচ্ছে। টেকনাফ পৌরসভাএলাকার চেয়ে গ্রাম-গঞ্জের চিত্র যেন আরও ভয়াবহ।
ভেজাল প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোন দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় নানাহ মহলে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এছাড়া দোকানীরা ইফতারী পন্যের মূল্য তালিকা না টাঙ্গানোর ফলে অনেক ক্ষেত্রেই ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন।

এলাকার রোজাদার ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ , রমজানে কেনাকাটায় সাধারণ মানুষ বেশিরভাগ সময় খুব বেশি দরকষাকষি করেন না। এ সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা নকল পণ্য বিক্রি করে তাদের পকেট ভারী করেন।

এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, এ ধরনের অপরাধ দমনে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের বিচ্ছিন্নতার সুযোগে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ইফতারে ভোগ্য খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল ও বিষাক্ত রাসায়নিক রং মিশিয়ে বিক্রি করছে। অনেকটা বাধ্য হয়েই নিু আয়ের মানুষগুলো গ্রহণ করছে এই ভেজাল ইফতার সামগ্রী।

টেকনাফ বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য