১৭ই আগস্ট, ২০১৯ ইং, ২রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

‘আমাদের রাজনীতি কলংকিত হয়েছে’ ঃ পীর হাবিবুর রহমান

সোমবার,১৯ জুন ২০১৭

টেকনাফবার্তা২৪ডটকম 

ডেস্ক সংবাদ ঃ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ি বহরে হামলা এবং তাকে শারিরীকভাবে আক্রমণ করার মধ্য দিয়ে আমাদের অসুস্থ রাজনীতির অসভ্য কর্মকাণ্ডের চিত্রপট আবার উদ্ভাসিত হয়েছে। কি সরকারি দল, কি বিরোধী দল, কি সাধারণ মানুষ; বিবেকবান সবাইকে বিক্ষুদ্ধ করেছে। এ ঘটনা রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার ও সংস্কৃতিতে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে দায়ীদের ছাড় দেয়া হবে না। এই ঘটনায় তিনি নিন্দা জানিয়ে একটি বড় রাজনৈতিক দলের বড় নেতার পরিচয়ই দিয়েছেন।

কিন্তু ঘটনার দিন নির্বাচনী এলাকায় থাকা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এটিকে বিএনপির নাটক বলে যে মন্তব্য করেছেন, সেটি রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার বর্হিভূতই নয়। এটি হামলাকারীদের বা অন্যায়কারীদের প্রশ্রয়দানের সামিল। ড. হাছান মাহমুদও উচ্চ শিক্ষিত ও সাবেক মন্ত্রীই নন, একজন রাজনীতিবিদ। মনে রাখতে হবে যে, রাজনীতি যদি রাজনীতিবিদদের হাতে রাখতে হয়, তাহলে রাজনীতিতে নানা মত পথ থাকলেও রাজনৈতিক নেতাদেরকেই সকল রাজনীতিবিদদের মান মর্যাদার রক্ষা করা দায়িত্ব। আজ যে রাজপথে কাল সে ক্ষমতায় আসতে পারে। আজ যে ক্ষমতায় কাল সে রাজপথে যেতে পারে। ক্ষমতার দম্ভ, উন্মাসিকতার কোন দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না।

বিএনপি দাবি করেছে, শাসক দলের কর্মীরা পাহাড়ের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দুর্গত মানুষদের ত্রাণ দিতে যাওয়ার সময় বিএনপি মহাসচিবের ওপর চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় হামলা চালিয়েছে। নিটক অতীতে এই সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যার পর সরকারি দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বলা হলো- এই ঘটনা জামায়াত-শিবির ঘটিয়েছে। কিন্তু পুলিশকে স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে দেয়ার পর বেরিয়ে আসলো হত্যাকাণ্ড ওই এলাকার সাবেক জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ঘটিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর যারা হামলা চালিয়েছেন তাদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এদেরকে গ্রেফতারে পুলিশের বিলম্ব হওয়ার কথা নয়। আমরা চাই, সংবিধান ও আইন, বিধি-বিধান অনুয়ায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। হামলাকারীরা যে দলেরই হোক চিহ্নিত হওয়ার পর তাদেরকে নিজ নিজ দল থেকে বহিষ্কারই নয় শাস্তিও আইন অনুযায়ী দিতে হবে।

অতীতে অনেক রাজনীতিবিদদের ওপরই নয়, আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে অসংখ্যবার হামলা হয়েছে। আমাদের রাজনীতি কলংকিত হয়েছে। নিন্দার ঝড় ওঠেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গাড়ি বহরেও অনেকবার হামলা হয়েছে। সেইসব হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো সরকারই ব্যবস্থা নেয়নি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবার পরিজনসহ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সামরিকতন্ত্রের যে রাজনীতি শুরু হয়েছিল, সেই ধারায় এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামী সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ওপর রাজপথ থেকে আটক অবস্থায় অবর্ণনীয় নির্যাতন হয়েছে। এই নির্যাতন শাসকরা ক্ষমতার দ্বম্ভে চালালেও তাদের ক্ষমতা চিরস্থায়ী হয়নি। দুনিয়াতেই তারা করুণ পরিণতি ভোগ করেছেন।

বিএনপি জামানায় তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে বিএনপি দলীয় ক্যাডাররা যে বর্বর হামলা চালিয়েছে, তাদেরকে দেশ ছাড়তে হয়েছে। তাদের মদদদাতাদের নির্বাসিত করুণ জীবনযাপন করতে হচ্ছে। ১৪ দলের নেতাদের ওপর যারা জাতীয় রাজনীতিতে মানুষের অধিকারের সংগ্রাম করেছেন আজীবন, তাদের ওপর হয় পুলিশ নয় শাসক দলের কর্মীদের দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এর পরিণতি চড়া মাশুলে তাদের গুণতে হয়েছে।

ফার্মগেটে মতিয়া চৌধুরী, পল্টনে মরহুম আব্দুস সামাদ আযাদ, মোহাম্মদ নাসিম আহত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ১৪ দলের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ, রাশেদ খান মেনন, দিলীপ বড়ুয়াদের আহত করা হয়েছিল। ৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর খুনিচক্র ও সামরিক শাসকরা সারাদেশের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জেলেই পুরেননি, হাত বেঁধে, চোখ বেঁধে নির্যাতন করেছিলেন। খুনিচক্র তোফায়েল আহমেদের মতো নেতাকে চোখ বেঁধে নিয়ে এতটাই নির্যাতন করেছিল যে, তাকে যখন শাহবাগ কন্ট্রোল রুমে এনে ফেলে রাখা হয়; তখন সারারাত বন্দী মরহুম রাজনীতিবিদ জিল্লুর রহমান ও আব্দুর রাজ্জাক সেবাশুশ্রষা করেছিলেন। কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় ৪ নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। সেই খুনিদের ফাঁসি হয়েছে। শাসকদের করুণ পরিণতি ঘটেছে।

টেকনাফ বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য