২৩শে মে, ২০১৯ ইং, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ই রমযান, ১৪৪০ হিজরী

১০ লাখ থেকে সর্বনিম্ম ১লাখ টাকায় ছেড়ে দেয়া হয় আটক ব্যাক্তিকে

সোমবার,১৯ জুন ২০১৭

টেকনাফবার্তা২৪ডটকম 

ডেস্ক সংবাদ ঃ টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া সবর্ত্র চলছে চাদাবাজি, মানুষ ধরে আবার বিক্রি করা হয় ছড়া দামে, ১০ লাখ থেকে সর্ব নিম্ম ১লাখ টাকায় ছেড়ে দেয়া হয় আটক ব্যাক্তিকে। ধরো ছাড়ো বাণিজ্যেই চলছে সারা রমজান। ঈদ মানেকি চাদাবাজি আর অন্যায় করা।  পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে চাঁদাবাজি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। বেড়ে গেছে চাঁদার পরিমাণও। ফুটপাতের হকারদের সব সময়ই চাঁদা দিতে হয়।

পুলিশের লাইনম্যান হিসেবে পরিচিত কিছু লোক নিয়মিত এই চাঁদা সংগ্রহ করে। আগে যে হকার দৈনিক ২০০ টাকা দিতেন, এখন তাঁকে দিতে হয় ৩০০ টাকা। শুধু হকার নয়, মার্কেটের দোকানদারদেরও টাকা দিতে হয়। মহাসড়কে পণ্যবাহী একেকটি ট্রাককে দিতে হয় তিন হাজার টাকা করে। সন্ত্রাসীদের হুমকি এবং ব্যক্তিপর্যায়ে চাঁদাবাজিও থেমে নেই। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে অনেক চাকরিজীবীকেও হুমকি দিয়ে চিরকুট পাঠানো হয়। চিরকুটে দাবি করা নির্দিষ্ট টাকা না পেলে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। জানা যায়, এরই মধ্যে গুলি করার বেশ কয়েকটি ঘটনাও ঘটেছে। এদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করে কোনো লাভ হবে না—এমন চিন্তা থেকে অনেকেই এদের দাবি পরিশোধ করেন। তার পরও কেউ কেউ থানায় যান। জানা যায়, গত ১৫ দিনে বিভিন্ন থানায় এমন শতাধিক অভিযোগ জমা হয়েছে। কোথাও কোথাও সরাসরি পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও উঠছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঈদ সামনে রেখে বগুড়ার গোয়েন্দা পুলিশ ব্যাপক চাঁদাবাজিতে নেমেছে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন এসআই আলমগীর হোসেন, যাঁর বিরুদ্ধে আগেও এমন অভিযোগ ছিল এবং বিভাগীয় তদন্তে কিছু অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে একের পর এক বদলির আদেশ ঠেকিয়ে মহা প্রতাপে তিনি বছরের পর বছর বগুড়ায় চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেককে ধরে এনেও চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

শুধু বগুড়া নয়, এ রকম অভিযোগ আরো অনেক জায়গা থেকেই পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশের বড় কর্তারা চাঁদাবাজির অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করছেন। তাঁরা বলেছেন, এবার চাঁদাবাজির বড় কোনো অভিযোগ নেই। তাঁরা কি শুধু গতকালের কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন দুটিকে আমলে নেবেন? এমনিতেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব খারাপ। প্রতিদিন বহু খুনের ঘটনা ঘটছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি হামেশাই ঘটছে। তার পরও পুলিশ সদস্যদের কেউ কেউ যদি এভাবে অপরাধে জড়িয়ে যান, তাহলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চাঁদাবাজির মূল হোতা পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতাকর্মী। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা মিলেমিশে চাঁদাবাজি করে, নির্দিষ্ট হারে চাঁদার টাকা ভাগ করে নেয়। বিপদ সাধারণ মানুষের। তারা অত্যাচারিত হবে। প্রতিকার চাওয়ার জায়গা পাবে না। এ অবস্থার আশু অবসান প্রয়োজন।

পুলিশ প্রশাসনকে নড়েচড়ে বসতে হবে। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে হবে। দুদকও এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তারা পুলিশ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সম্পদের বিবরণ সংগ্রহ করতে পারে, এনবিআর থেকেও বছরভিত্তিক সম্পদবিবরণী নিয়ে যাচাই করতে পারে এবং অসংগতি পেলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে। আমরা দ্রুত চাঁদাবাজির নামে চলা নৈরাজ্যের অবসান চাই।

টেকনাফ বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য