১৯শে জুন, ২০১৯ ইং, ৫ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ই শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

আলোচনায় কাজল লতা থেকে সুবোল লতা ধান

Friday,19 Jan 2018

teknafbarta24.com

জাহিদুর রহমান তারিক,ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহে হরি ধানের পর এবার তুমুল আলোচনায় এসেছে সুবোল লতা ধান। সুবোল লতা আসলে কোন স্বীকৃতি প্রাপ্ত ধানের নাম নয়। ঝিনাইদহের নিরক্ষর কৃষক হরিপদ কাপালী যেমন ইরিধান থেকে হরিধানের উদ্ভাবক, তেমন কাজল লতা ধান থেকে সুবোল লতা ধানের উদ্ভাবক হচ্ছেন সুবোধ বিশ্বাস। তাই কৃষি বিভাগ ও এলাকার কৃষকরা ধানের নাম রেখেছেন সুবোধ লতা।

সুবোল বিশ্বাসের বাড়িও হরিপদ কাপালীর আসাননগর গ্রামে। সত্তর বছরের বৃদ্ধ সুবোল বিশ্বাসের বাবার নাম হচ্ছে মৃত কিরণ বিশ্বাস। হরিপদ ও সুবোল সম্পর্কে ভাইরা ভাই। একই উঠোন তাদের। ভাইরা ভাই হরিপদ কাপালীর দেখাদেখি সেও এই নুতন জাত আবিস্কারে প্রলুব্ধ হয়। উদ্ভাবক সুবোল বিশ্বাসের ভাষ্যমতে, ধানের জাত নির্বাচনের সেই কাহিনী হরিপদ কাপালীর মতোই।

২০০৬ সালে কাজল লতা ধান ক্ষেতের মধ্য থেকে ব্যতিক্রম কিছু ধান গাছ নিয়ে বীজ তৈরীর কাজ করেন জাত কৃষক সুবোল বিশ্বাস। দুই বছর পর অর্থাৎ ২০০৮ সাল থেকে নিজ জমিতে আবাদ শুরু করেন সুবোল বিশ্বাস। দৃশ্যমান আবাদের প্রথম বছর এলাকার কৃষকদের নজর কাড়ে। এরপর কয়েক বছরের মধ্যে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে সুবোল লতা ধান। উদ্ভাবনের ১১ বছর পার হলেও কৃষকদের কাছে সুবোল লতা ধানের কদর কমেনি। বরং দিনকে দিন কোন না কোন জেলায় এই ধানের আবাদ বাড়ছে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মনিরুজ্জামানের মতে ২৮ ধানের মতোই সুবোল লতা ধানের পারফরমেন্স। আবাদে সার ও ওষুধ কম লাগে। ঝিনাইদহ ছাড়াও দেশের বগুড়া, দিনাজপুর, ফরিদপুর ও মাগুরা জেলায় সুবোল লতা ধানের ব্যাপক আবাদ হচ্ছে বলে তিনি জানান।

ঝিনাইদহের ডাকবাংলা বাজারের মিল গুলোতে সুবোল লতা ধান থেকে উৎপাদিত চালের প্যকেটে সুবোল লতা কথাটি শোভা পাচ্ছে। সুবোল বিশ্বাসের মতে ইরি আবাদ মৌসুমে এই ধানের ফলন বেশি হয়। সবোর্চ্চ ২৮ মন ধান হয় ৩৩ শতকের বিঘায়। আর আমনে ফলন কম হয়।

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-সহকারী উদ্যোন কর্মকর্তা বিধান চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ২০১২-১৩ আবাদ মৌসুমে ঝিনাইদহ জেলায় সুবোল লতা ধান ১৬ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছিলো। ২০১৪ সালে আবাদ বেড়ে দাড়ায় ১৭ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে। সর্বশেষ ২০১৬-১৭ মৌসুমে ১৬ হাজার ৩৫ হেক্টর জমিতে সুবোল লতা ধানের চাষ হয়।

হরিপদ কাপালীর মতো সুবোল বিশ্বাসেরও কোন চাওয়া পাওয়া নেই। তার অভিব্যক্তি, তিনি চান তার উদ্ভাবিত ধান স্বীকৃতি পাক। পত্রিকা ও টেলিভিশনে তাকে নিয়ে খবর প্রচারিত হোক।

মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজের চ্যানেল আই এর হৃদয়ে মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানে তার উদ্ভাবিত ধান নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারিত হোক শেষ বয়সে এটাই চান বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়া সাধুহাটী ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামের সুবোল বিশ্বাস।

টেকনাফ বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য