১৯শে জুন, ২০১৯ ইং, ৫ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ই শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

সাংবাদিকের স্বাধীনতা নিরঙ্কুশ হলে ক্ষতিটা কতটুকু আর লাভটা কতখানি

Saturday, 03 Feb 2018
teknafbarta24.com
স্বাধীনতা কোন লাইসেন্সিং নয়। একটা সিস্টেমে একটি নৈতিক কাঠামো ও পরিসীমার মধ্যে সবাই আচার- আচরণ করবে এটাই খুবই স্বাভাবিক। কিন্ত শর্ত দিয়ে কাউকে তার স্বাধীনতার প্রয়োগ সীমার মধ্যে বেঁধে রাখা যাবে কিনা সেটা একটি বিতর্কের বিষয়। দ্বিতীয়ত স্বাধীনতার প্রয়োগ যদি শর্ত সাপেক্ষের বাইরে গিয়ে সাংবাদিক বারে বারে করতে থাকে তাহলে এটা স্পষ্ট যে বাধ্যবাধকতা দিয়ে নয় বরং সহজাত নৈতিক ভিত মজবুত করার পন্থা পদ্ধতি খুঁজতে হবে।
 
সুইডেনে সর্বপ্রথম ১৭৫৬ সালে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা স্বীকার করে নেওয়া হয়।কিন্ত তার দুইশ বছর পর ১৯৪৯ সালে জারিকৃত এক আইনে আদালতের বিবেচ্য বিষয়, ব্যাক্তি অধিকার সংরক্ষণ ও জননিরাপত্তা ইত্যাদি বিষগুলোর ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দেয়া হয়নি। অপরদিকে ইউরোপের ফেডারেল গণত্রান্তিক রাষ্ট্র জার্মানির বেসিক ল- এর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের ১ নং ধারায় বলা হয়েছে-
Everyone has the right to express and disseminate his opinion freely in speech, writing and images and to inform himself without let or hindrance from generally accessible sources. Freedom of the press and the freedom to report by radio and film are guaranteed. There shall be no censorship.
 
উল্লেখিত ধারায় ব্যাপক স্বাধীনতার কথা বলা হলেও একই অনুচ্ছেদের ২ নং ধারায় তাকে নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে এইভাবে ঃ
These rights are limited by the provisions of general laws, the legal requirements governing the protection of young people and the right to personal honour.
 
আমরা দেশ-বিদেশের সংবিধান ও ঐতিহাসিক উদ্ধৃতি ও মন্তব্য থেকে এটা বুজতে পারছি যে সংবাদপত্রের ততা মিডিয়ার স্বাধীনতা বা সাংবাদিকের স্বাধীনতা কথাও নিরঙ্কুশ নয়। কোথাও প্রকটভাবে কোথাও ঢিলেঢালাভাবে বা উদার দৃষ্টিভঙ্গিতে সংবাদপত্রের নিয়ন্ত্রনযুক্ত স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। আবার এমনও আছে যে নিয়ন্ত্রনের কথা বা বিধিনিষেদের কথা বলা হয়েছে কিন্ত জ্ঞাতসারে যতটা তার চেয়ে অজ্ঞতে,অসচেতনায় স্বাধীনতার লঙগণ হচ্ছে অহরহ। অন্যদিকে কোথাও কোথাও স্বাধীনতা নিরঙ্কুশ রয়েছে সনদে কিন্ত তার প্রয়োগ কখনই দৃশ্যমান নয়।
কিন্ত দৃশ্যত গণ্ডিব্বদ সমাজবেবস্থা যদি না হয় তাহলে গণত্রান্তিক বেবস্থায় সংবাদপত্রের বা সাংবাদিকের স্বাধীনতা নিরঙ্কুশ হলে ক্ষতিটা কতটুকু আর লাভটা কতখানি।
ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওয়াহেরলাল নেহরু একদা বলেছিলেন, ” I would rather have a completely free press with all the dangers involved in the wrong use of the freedom than a suppressed or a regulated press.” একটি অবরুদ্ধ অথবা নিয়ন্ত্রিত সংবাদক্ষেত্রের বদলে স্বাধীনতার বেঠিক ব্যাবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল বিপদসমূহ পুরোপুরি স্বাধীন সংবাদপত্রের পক্ষেই ছিলেন পণ্ডিত নেহরু। 
মহামতি প্লেটো বলেছিলেন, মুক্ত আলোচনার মধ্য দিয়ে সত্যে উপনীত হওয়া যায়।
রাশেদুল করিম
সম্পাদক, টেকনাফ বার্তা২৪ডটকম
তথ্য সূত্র ঃ সাংবাদিকতা নীতি শৈলী ও শৈথিল্য

টেকনাফ বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য