১৯শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

ইয়াবা সেবনকারীর মানসিক ও মৃতু্য ঝুঁকির হার বেশী থাকে

Friday,16 March 2018

teknafbarta24.com

রাশেদুল করিম: ‘স্পিড ড্রাগ’ নামে পরিচিত ‘ইয়াবা’ পাচারের কৌশল হিসেবে পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ ‘কুরআন শরীফ’ কে পর্যন্ত ব্যবহার করতে কসুর করেনি ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। এ ধর্মীয় গ্রন্থের ভেতরে করে ইয়াবা পাচারকালে গত ১২ ই মার্চ ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ তিন জনকে আটক করে ২ বিজিবি ।

ইয়াবা পাচারের বিভিন্ন কৌশলের ব্যবহার সম্পর্কে শুনা গেলেও পবিত্র গ্রন্থের ভেতরে মাদক পাচারের ঘটনা অনেককে অবাকই করেছে।

কুরআন শরীফ কে কেন মাদক পাচারের ঢাল হিসেবে ব্যবহার?

টেকনাফে বিজিবির ২ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল মো. আছাদুদ জামান চৌধুরী জানান, গত ১২ই মার্চ গভীর রাতে মিয়ানমারের দিক থেকে আসা একটি নৌকা বড়ইতলী এলাকায় এসে পৌঁছালে বিজিবির একটি টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে।এ সময় কিছু লোক পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বিজিবি সৈন্যরা তিনজনকে আটক করেন। এদের একজনের দেহ তল্লাশি করার সময় কোরআন শরীফ খুঁজে পাওয়া যায়। সেই কোরআন শরীফ খুলে দেখা যায় যে কোরানের ভেতরে কেটে সেখানে ১৫ হাজার ইয়াবা লুকানো রয়েছে।

আটক ইয়াবার মূল্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা হবে বলে ধারনা করা যায়।

চোরাচালানের মাধ্যম হিসেবে কোরআনের মত ধর্মীয় বস্তু ব্যবহার কক্সবাজার এলাকায় নতুন কোন ঘটনা নয়।গত ১০ই মার্চ কক্সবাজার থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয় যার মাথার পাগড়ির মধ্যে ৬০০০ ইয়াবা বড়ি লুকানো ছিল বলে লে.কর্নেল চৌধুরী জানান।

চোরাচালানিরা আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করার চেষ্টা চালায়, আমাদের সৈন্যরা কোরানের প্রতি শ্রদ্ধাবশত: তা পরীক্ষা করবেনা বলেই চোরাচালানিরা মনে করেছিল বলে জানান তিনি।

ইয়াবার সহজলভ্যতা :

ইয়াবা পাচারকারীদের কাছে এটি একটি অধিক মুনাফা লাভের মাধ্যম। যার কারনে এই মাদকটি পাচারে নিত্য নতুন কৌশল প্রয়োগ করে সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকে পড়ছে মাদকসেবীদের নিকট।কার্যত এটির প্রস্ত্ততকারক মায়ানমার ও চীন। সেসব দেশ থেকে বাংলাদেশের মাদকসেবীদের কাছে ইয়াবার চাহিদা থাকায় এটি এখন নানান কৌশলে এখানে নিয়ে আসেন পাচারকারীরা। আর এই পাচারকারীদের হাত ঘুরে এটি চলে যায় মাদকসেবীদের নিকটে। ওজনে ছোট আর টাকার অংক বেশী হওয়ায় এই ইয়াবা ব্যবসায় যেন অনেকের কাছে সহজ লাভাংশ ব্যবসার একটি মাধ্যম।

ইয়াবা ব্যবহারের কুফল :

মাদকসেবীদের কাছে এই ইয়াবা যেন নিজেকে সতেজ রাখার মাধ্যম, তবে এটি ধীরে ধীরে ব্যবহারকারীকে নিস্তেজ করে দেয়। এই মাদক ব্যবহারে দুই ধরনের কুফল রয়েছে, স্বল্প মেয়াদী ও দীর্ঘ মেয়াদী।

স্বল্প মেয়াদী কুফল হল এটির ব্যবহারের ফলে নিদ্রা সমস্যা, হারটের ঝুঁকি, ব্লাড প্রেশার বৃদ্ধি পাওয়া, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, হঠাৎ করে উত্তেজিত হয়ে পড়া, মানসিক ও মৃতু্য ঝুকিসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে।

দীর্ঘ মেয়াদী কুফল হল, লিভার ও কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া,দাঁতের মারাত্মক ক্ষতি, কাজের প্রতি বেখেয়াল থাকা, নাকের ভেতরের টিস্যু ধংস হয়ে যাওয়ার মত মারাত্মক ক্ষতি রয়েছে।

উল্লেখ্য, ইয়াবা তৈরির মূল উপাদান এ্যামফিটামিন প্রথম তৈরি হয়েছিল জার্মানিতে ১৮৮৭ সালে। এটিকে ব্যবহারের জন্য আরও আধুনিকায়নে উন্নতি করে জাপান ১৯১৯ সালে। জাপানের কামিখাজে পাইলটদের যুদ্ধের সময় সুইসাইড মিশনের আগে হাইডোজ আকারে এই মাদক প্রদান করা হতো। ১৯৫০ সালে এই মেটামফেটামিন কে অবসাদ দূরীকরন ও ডায়েট রক্ষা করার ঔষুধ হিসেবেও প্রদান করা হত বলে জানা যায়।

এ ইয়াবা এখন ধীরে ধীরে ক্যানসারের ন্যায় জীবন হরনকারী মাদক হিসেবে অলি গলিতে স্থান নিয়েছে।

রাশেদুল করিম,সম্পাদক।

সিটিজি&টেকনাফবার্তা২৪ডটকম

 

টেকনাফ বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য