১৯শে জুন, ২০১৯ ইং, ৫ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ই শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

পহেলা এপ্রিল ও মুসলিম জাতির দু:খ বেদনা

Sunday, 01 April 2018

teknafbarta24.com

পহেলা এপ্রিল। এ দিবসটির সাথে জড়িয়ে আছে মুসলিম জাতির দু:খ ও বেদনার।  এ দিবসটি মুসলমানদের জন্য অত্যান্ত দু:খ ও বেদনার । ইহুদি-খ্রিষ্টানদের জন্য সুখ ও আনন্দের। ইসলামের চির দুশমন ইহুদি-খ্রিষ্টান তথা পশ্চিমারা  দির্ঘ দিন যাবত সিমাহীন আনন্দের সাথে এ দিবসটি পালন করে আসছে। ‘পহেলা এপ্রিল ডে’ আনন্দ উৎসবের দিন নয়, আবার ফুলের তুড়া নিয়ে খেলারও দিনও নয়। বরং এটি হচ্ছে বেদনাময় একটি দিন।

এদিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য কখনো আনন্দ উৎসবের  দিন হতে পারেনা। বরং এদিনটি মুসলমানদের জন্য  বড় বেদনাময় একটি দিন। রক্ত ঝরা এক ট্রাজেডি।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও বাস্তব  য,আজ আমাদের সমাজের অনেক মুসলমানগণও ইহুদি-খৃষ্ঠান তথা পশ্চিমা সংস্কৃতি অনুসরণ করে তা পালনও শুরু করছে। তন্মধ্যে ‘পহেলা এপ্রিল  ফুল’ হচ্ছে একটি। মুসলমানদেরকেও এ দিবসটিতে আনন্দ করতে দেখা যায়। ডিজিটাল যুগে ডিজিটালের টাচ পেয়ে ভুলে যাচ্ছি আমরা আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য । যুগের চাহিদা তথা স্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা ও পালন করছি ‘পহেলা এপ্রিল ডে’।
পহেলা এপ্রিল ভোর থেকেই শুরু হয়ে যায় এপ্রিল ফুলের আমল। সে দিন আমাদের দেশের স্কুল- কলেজ -ভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীসহ অনেক তরুণ-তরুণীরা একে অন্যকে বিভিন্ন কলা-কৌশলে ধোঁকা দিয়ে বোকা সাজিয়ে হাসি তামাশা তথা আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠে। সত্য কখা হচ্ছে যারা এ দিবস পালন করেন  তাঁদের অনেকেই জানে না  এপ্রিল ফুলের সঠিক ইতিহাস। আমার পুরো বিশ্বাস আছে যে যদি  তাঁরা জানতো তাহলে জীবনে কোন দিন এপ্রিল ফুল পালন করতো না। সেই বেদনাময় ইতিহাস জানা থাকলে তাঁদের আত্মা কেঁপে ওঠতো । ইহুদি-খ্রিষ্টান তথা পশ্চিমাদের প্রতি তাঁেদর ঘৃণা জন্মাতো এবং সেই প্রতিশোধ নেয়ার জন্য আজও তাঁরা প্রয়াস চালাতো । এ দিনটি আমাদের জন্য খুবই হৃদয়বিদারক একটি দিন। বক্ষমান এ প্রবন্ধে সংক্ষিপ্তকারে এপ্রিল ফুলের সঠিক ইতিহাস পাঠকদের সামনে তুলে ধরার প্রয়াস করলাম।

এপ্রিল ফুলের সূচনা :

৭১১ খ্রিষ্টাব্দে উমাইয়া শাসনামলে ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিকের রাজত্বকালে মুসলমানগণ তারেক ইবনে যিয়াদের নেতৃত্বে স্পেন বিজয় অর্জন করে মুসলমানদের শাসন ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুদীর্ঘ আটশত বছর মুসলমানরা স্পেন রাজত্ব করেছিলেন। মুসলমানদের শাসনামলে তাঁরা অর্থনৈতিক, দর্শন, জ্ঞান -বিজ্ঞান, সাহিত্য-সংস্কৃতি, শিক্ষা ও গবেষনা সর্বক্ষেত্রে তারা অকল্পনীয় সাফল্যতার চুড়ায় পৌছেছিলেন । মুসলমানদের আয়ত্ত্বাধীন ছিল গ্রানাডা, কর্ডোভা, সেভিল, জাভিতা সহ অসংখ্য অঞ্চল।
দীর্ঘদিন শান্তিতে বসবাস করত: ধীরে ধীরে মুসলমানগণ ভূলে যান তাঁদের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং ঈমানি দায়িত্ব। মত্ত হয়ে যান দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে। সরে যান ইসলামের হুকুম আহকাম তথা কুরআন-সুন্নাহ থেকে। মুসলমানগণ ভুলে যান কোরআন ও হাদিসের অমূল্য শিক্ষা। তাঁরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে যান। নৈতিক অবক্ষয় ও বিবেদ ধীরে ধীরে চর্তুদিকে থেকে গ্রাস করে ফেলে স্পেনের মুসলমানদেরকে। আর এ দুর্বলতার সুযোগ গ্রহন করে রাজা ফার্ডিন্যান্ড এবং রানী ইসাবেলা।  বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে রাজা ফার্ডিন্যান্ড মুসলিম শাসনকর্তা আবু আব্দুল্লাহকে হাত করে নিল এবং ধীরে ধূরে স্পেনের ঘাটি গ্রানাডা তারা আয়ত্ব করে নিল।

এপ্রিল ফুল প্রথা: 

১৯৪২ সালে পুরো স্পেনের মুসলমানদের শাসন ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয় খ্রিষ্টানরা। তৎকালীন মুসলিম শাসকদের নাম ছিল হাসান। হাসান রাজার এক ছেলের নাম ছিল আবু আব্দুল্লাহ। খ্রিষ্টানরা হাসান রাজার বিরূদ্ধে অনেক চক্রান্ত শুরু করলো। ছেলের বিদ্রোহের মুখে তার পিতা শাসন ক্ষমতাচ্যুত হন। তার পিতার শাসন ক্ষমতাচ্যুতের পর মুসলিম শাসক হলেন তার ছেলে আবু আব্দুল্লাহ। কিছুদিন পর পর্তুগিজ রানী ঈসাবেলা এবং তার পার্শ্ববর্তী রাজ্যের রাজা ফার্ডিন্যান্ড ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী খ্রিষ্টান বাহিনী  গঠন করে মুসলমানদের ওপর দলবল তথাঅস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে আক্রমন চালায়। মুসলমানগ সকল শক্তি সামর্থ্য দিয়েও রাজা ফার্ডিন্যান্ড ও তাদের দলের লোকদের আক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারেনি। মুসলমান এবং খ্রিষ্টানদের সাওেত তুমুল সংঘর্ষ চলছে। সংঘর্ষ বন্ধ হচ্ছেনা এ অবস্থা দেখে

রাজা ফার্ডিন্যান্ড ঘোষনা করলো : হে মুসলমানগণ যদি তোমরা আমাদের আক্রমণ থেকে বাচঁতে চাও তাহলে আমাদের দু’টি প্রস্তাব নির্ধিদ্বায় মেনে নাও ,প্রস্তাবদ্বয় হচ্ছে
১.তোমরা  অস্ত্র ত্যাগ করে,স্পেন তথা গ্রানাডার সকল বড় রড় মসজিদে অবস্থান কর তাহলে তোমরা সকল নিরাপদ থাকবে কেউ তোমাদের উপর আক্রমণ করবেনা।
২. যারা নৌজাহাজে আশ্রয় নিবে তাদেরকে নিরাপদের সাথে অন্য মুসলিম দেশে চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। তাদের উপরও আমাদের কেউ আক্রমণ চালাবেনা।
সরলমনা মুসলমানগণ গ্রানাডা ও স্পেনবাসী অসহায় নারী ও শিশুদের আর্তচিৎকার সহ্য করতে না পেরে এবং তাদের করুন মুখের দিকে তাকিয়ে শেষ পর্যন্ত  রাজা ফার্ডিন্যান্ডের প্রস্ত রাজি হয়ে গেলেন।
ইহুদি-খৃষ্ঠানদের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য তাদের প্রস্তাবে সাঁড়া দিয়ে কেউ কেউ গ্রানাডার বড় বড় মসজিদে অস্ত্র ছাড়া আশ্রয় গ্রহণ করলেন আবার কেউ কেউ সাগরের তীরে রাখা বড় বড় লঞ্চে আশ্রয় নিলেন। যারা মসজিদে অবস্থান করলেন তখন একযোগে গ্রানাডা ও স্পেনের বড় বড় মসজিদ সমূহে তালা লাগিয়ে দেওয়া হলো এবং ভিতরে পেট্রোল দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে মসজিদের ভিতরের সমস্ত মুসলমানদেরকে জ্বালিয়ে দেওয়া হল। আর যারা সাগর পাড়ি দিয়ে মরোক্কসহ অন্যান্য মুসলিম দেশে চলে যাওয়ার জন্য  সমুদ্রের তীরে রাখ লঞ্চে অবস্থান করলেন তখন তাদেরকে লঞ্চ ডুবিয়ে পানিতে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। হত্যাপর্ব শেষ হওয়ার পরপর-ই  মুসলমানদের দোশমন খ্রিষ্ঠ্রান রাজা ফার্ডিন্যান্ড আনন্দে আতœহারা হয়ে তার স্ত্রী ইসাবেলাকে জড়িয়ে ধরে অট্টহাসিতে  ঙয গঁংষরসং যড়ি ঋড়ড়ষ ুড়ঁ ধৎব ! [ হে মসলমানগণ ! তোমরা কতইনা বোকা ] বলে চিৎকার শুরু করলো ,সে বললো মুসলমান তোমরা কতই না বোকা জাতি। সেই দিন ছিল ১৯৪৭ সালের ১লা এপ্রিল। তখন থেকে খ্রিষ্টানরা প্রতি বছর এপ্রিল ফুল পালন শুরু করলো।
ইতিহাসে উল্লেখ আছে যে,সেদিন এক সাথে সাত লক্ষ মুসলমানদেরকে রাজা ফার্ডিন্যান্ড ও তার দোসররা  নির্মমভাবে হত্যা করলো। সে দিন অসহায় নর-নারী ও শিশুদের বুক ফাটা আর্ত  চিৎকারে  পৃথিবীর বাতাস মুখরিত করে তুলেছিল। মুসলমানদের রক্তে রক্তাক্ত হয়েছিল স্পেনের পুরো জমিন। মুসলমানদের  রক্তে সাগরের পানি থৈথৈ করছিল। প্রতারণা ফাঁদে ফেলে সাত লক্ষ মুসলমানদের উপর খ্রিষ্ঠানরা যে ভয়াবহ গণহত্যা চালিয়েছিল ইতিহাসে এহেন নজীর আছে কি? এর জবাবে সকলেই  এক বাক্যে নাই বলতে-ই বাধ্য হবেন!
আফসোস হয়! মুসলিম জাতি হয়েও আজ আমরা ইহুদি-খৃষ্ঠান তথা পশ্চিমা সংস্কৃতি লালন-পালন করছি। মুসলিম উম্মাহ আজ কত অন্ধকারে নিমজ্জিত। ইহুদি -খ্রিষ্টানরা লক্ষ্য লক্ষ্য মুসলমানদেরকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করার পর এ দিনে আনন্দ উৎসব করে এপ্রিল ফুল পালন  করেছিলো  কিস্ত আজ আমরাও তাদের সাথে তাল মিলিয়ে পহেলা এপ্রিল পালন করছি। আপনার-ই বলুন পহেলা এপ্রিল আনন্দ-উল্লাসের নাকি শাহাদতের !?
সুপ্রিয় পাঠক! এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য খুবই বেদনাময় ,ইহুুিদ-খ্রিষ্ঠানদের জন্য মহা-আনন্দের। কোন মুসলমান কি পারে অপর মুসলমান ভাই-বোনদের রক্ত নিয়ে খেলা করতে? না কখনো না। যদি কেহ পহেলা এপ্রিল  ডে পালন করে তাহলে সে পহেলা এপ্রিলে শাহাদতবরণকারী সকল মুসলমানদের রুহের সাথে গাদ্দারী করলো। পাশাপাশি ইহুদি-খ্রিষ্ঠ্রানদের সহযোগী হল। অন্য দিকে রাসুল সা: এর দল থেকে বিচ্ছিন্ন হল। কারণ হযরত রাসুল সা: হাদিসে ইরশাদ করেন,“যে ব্যাক্তি কোন মুসলমাণকে ধোঁকা  দিবে সে আমার দল থেকে বিচ্ছিন্ন হবে। অর্থাৎ সে আমার দলের অন্তভোক্ত নয়। -তিরমিযি শরীফ

শেষ কথা:এপ্রিল ফুল হচ্ছে ইহুদি খ্রিষ্টান তথা পশ্চিামের সংস্কৃতি।  দয়াময় আল্লাহতা’য়ালা যেন আমাদের সকলকে এপ্রিল ফুলসহ সকল প্রকার অপসংস্কৃতির আগ্রাসন থেকে  থেকে বেঁচে থাকার তওফিক দান করুন। আমিন।

টেকনাফ বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য