২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

বিশ্বে প্রতিবছর ৬০ লাখের মানুষের মৃতু্যর কারণ তামাক

Thursday,31 May 2018

teknafbarta24.com

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস আজ। ১৯৮৭ সাল থেকে প্রতিবছর ৩১ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও এর সহযোগী সংস্থাসমূহের উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। তামাকের স্বাস্থ্যঝুঁকিসমূহ তুলে ধরে তামাক ব্যবহার প্রতিরোধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নই দিবসটি পালনের লক্ষ্য ।

দিবসটিতে এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সাদা মাটা মোড়ক (প্লেইন প্যাকেজিং) – তামাক নিয়ন্ত্রণে আগামী দিন।’ সঙ্গত কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও এর সহযোগী সংস্থাসমূহ বিভিন্ন দেশের সরকারসমূহকে প্লেইন প্যাকেজিং প্রবর্তনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের আহবান জানিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী প্রদান করেছেন। প্রদত্ত বাণীতে রাষ্ট্রপতি তামাকের ব্যবহার রোধে সরকারের পাশাপাশি দেশের সিভিল সমাজ, গণমাধ্যম ও ধূমপান বিরোধী সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রকৃতপক্ষে, প্রতিটি তামাক পণ্যের মোড়কই, তামাকের একটি চলমান বিজ্ঞাপন। তামাকপণ্যের বাহারি রঙিন মোড়ক, তামাক পণ্যকে আরো আকর্ষণীয় ও লোভনীয় করে তোলে। তামাকের প্রতি বিজ্ঞাপনের এই আকর্ষণ কমাতে পৃথিবীর অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও সাদামাটা মোড়কের প্রচলন জরুরি।

প্রদত্ত বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, উন্নত জাতি ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের প্রয়োজন একটি সুস্থ সবল জনগোষ্ঠী। কেননা তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার দেশের জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও অচিরেই সাদামাটা মোড়কের প্রচলন চারু করা হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে আমরা যে কোন ধরনের তামাককে না বলি’।

দিবসটি উপলক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শোভাযাত্রা এবং আলোচনা সভা। আজ সকালে শোভাযাত্রাটি শেষ হয়েছে। সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা।

এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ।

তামাক বিরোধী সংগঠনগুলো মনে করে, তামাকের ব্যবহার কমাতে প্লেইন প্যাকেজিং (সাদামাটা মোড়ক) অত্যন্ত কার্যকর একটি পদ্ধতি। প্লেইন প্যাকেজিং তামাকের প্যাকেট বা কৌটাকে তামাক ব্যবহারকারীর কাছে অত্যন্ত অনাকর্ষণীয় করে তোলে। এই পদ্ধতিতে তামাকপণ্যের প্যাকেট বা কৌটার গায়ে কোন প্রকার প্রচারণামূলক ও বিভ্রান্তিকর শব্দ ব্যবহারের সুযোগ থাকে না, যা ছবিযুক্ত স্বাস্থ্য সর্তকবাণীর কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ্ এন্ড ওয়েলফেয়ার কর্তৃক পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় প্লেইন প্যাকেজিং চালু হওয়ার এক বছর পর অর্থাৎ ২০১৩ সালে দৈনিক ধূমপায়ীর হার ১৫.১ শতাংশ থেকে ১২.৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্লেইন প্যাকেজিং চালু হওয়ার পর তরুণদের মধ্যে সিগারেটের প্যাকেটের প্রতি আকর্ষণ দারুণভাবে কমে গেছে।

‘ইউনাইটেড ফোরাম এগেইন্সট টোবাকো’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও ‘ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ’-এর অধ্যাপক ডা, সোহেল রেজা চৌধুরী একটি গবেষণা প্রতিবেদন উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশে ৪৩ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৪ কোটি ১৩ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক সেবন করেন, যার মধ্যে ২৩ ভাগ (২ কোটি ১৯ লক্ষ) ধূমপানের মাধ্যমে তামাক ব্যবহার করেন এবং ২৭.২ ভাগ (২ কোটি ৫৯ লক্ষ) ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করেন। গবেষণায় দেখা গেছে ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারের হার নারীদের মধ্যে অনেক বেশি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, তামাকখাত থেকে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব পায় তামাক ব্যবহারের কারণে অসুস্থ রোগীর চিকিৎসায় সরকারকে স্বাস্থ্যখাতে তার দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। তামাকজনিত মোট ক্ষয়ক্ষতি হিসেব করলে তা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ শতাংশ।

টেকনাফ বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য