২৭শে মে, ২০১৯ ইং, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২শে রমযান, ১৪৪০ হিজরী

নৌকার যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে কেন্দ্রের নির্দেশনা উপেক্ষিত হচ্ছে

Friday,15 February 2019

teknafbarta24.com

সিনিয়র প্রতিবেদক: কক্সবাজার মহেশখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের নির্দেশনা মানা হচ্ছে কিনা সংশয় প্রকাশ করেছে তৃণমূল নেতারা।

সারাদেশের মতো আগামী মাসে মহেশখালীতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও তৃণমূলে আগ্রহের কোন কমতি নেই। কিন্তু অভিযোগ ওঠেছে তৃণমূলের চাওয়াকে জলাঞ্জলী দিয়ে একটি মহল মনোনয়ন বাণিজ্যের দিকে ঝুঁকেছে! তবে তার আদ্যোপান্ত কতটুকু সত্য তা জানা যাবে সম্ভাব্য তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী নীতি নির্ধারকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় একক কিংবা তিনজনের নাম কেন্দ্রে পাঠাবে। একইসঙ্গে মাঠ পর্যায়ে নিজস্ব জরিপও অব্যাহত রেখে সামনে এগুচ্ছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।

অপরদিকে ত্যাগী সৎ ও ক্লিন ইমেজের সাবেক ছাত্রনেতা কিংবা দলের কঠিন সময়ে হাল ধরা নেতাকর্মীদের বাদ দিলে মহেশখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তার প্রভাব ও মাশুল গুনতে হবে বলে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছে তৃণমূল।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নেতাদের একটি প্রভাবশালী মহল তাদের পছন্দসই প্রার্থীর নাম দেয়ার চেষ্টা করছে। তবে এসব অভিযোগ সর্বৈব অস্বীকার করেছেন তাঁরা। অথচ উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে তৃণমূলের পছন্দনীয় ও গ্রহনযোগ্য প্রার্থী বাচাইয়ে স্থানীয় সংসদ ও জেলা কমিটি কি মহেশখালী উপজেলার ক্ষেত্রেও সেই নিদের্শনা মানছে! নাকি মানছেনা সে প্রশ্ন এখনো অধরায় রয়েছে!

সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রের নিদের্শনা রয়েছে যাদের নাম ইয়াবা পাচারের তালিকায় রয়েছে, দূর্নীতি মামলায় যারা আসামী হয়েছে, ১২ বছর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা যাদের নেই, যাদের বয়স ৬০ বছরের উপরে হতে চলছে, যারা ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রাথানা প্রচার প্রচারনায় ও মিছিল মিটিং এ অংশ গ্রহণ করেননি কেন্দ্র তাদেরকে নমিনেশন দেবেন না।

মহেশখালী উপজেলাবাসী সুত্রে ও জনমত জরিপে জানা যায়, এবারে মহেশখালী উপজেলায় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন-বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মো. হোসাইন ইব্রাহীম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ বাদশা, ধলঘাটা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান কামরুল হাসান, যুবলীগ নেতা মোস্তাফা কামাল, মহেশখালী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সাজেদুল করিম এবং মাতারবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছমি উদ্দীন সহ প্রমূখ।

যদিও এর মধ্যে মহেশখালীতে কিছু অবৈধ মাদক ব্যবসায়ী চোরাকারবারিদের পৃষ্ঠপোষক আশ্রয়-প্রশ্রয়দানকারী ব্যক্তি, যারা প্রধানমন্ত্রীর মেগা প্রকল্পে দূর্নীতি করেছেন এবং মাতারবাড়ি কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম ও দূর্নীতিতে জড়িয়ে ছিলেন তাঁরাও মহেশখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পাখা মেলছে বলে জানা যায়।

মহেশখালীর রাজনীতির নানা হিসাব ও বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, এসব সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ন্যায় নিষ্ঠা, দক্ষতা সহ সব মিলিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত ধলঘাটার বর্তমান চেয়ারম্যানকে নৌকা প্রতীকে উপজেলায় মনোনয়ন দিলে বিজয়ী হবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে একাধিক নেতাকর্মীরা মন্তব্য করেন। এমনকি জানা যায়, সরকারের নানা জরিপ ও গোয়েন্দা রিপোর্টও তার নাম উঠে এসেছে বলে একটি সুত্র দাবি করছে।

দলীয় সুত্রে জানা যায়, জেলা-উপজেলা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক অথবা আহ্বায়ক-যুগ্ম আহ্বায়কের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, উপজেলা নির্বাচনের প্রতিটি পদে একক অথবা তিনজন প্রার্থীর নামের সুপারিশ-সংবলিত একটি প্যানেল তৈরি করতে হবে। দলের উপজেলা শাখা প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে বর্ধিত সভা করে এ প্যানেল তৈরি করে দলের জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠাবে।

এরপর জেলা আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট সব উপজেলার প্রার্থী তালিকা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে পৌঁছে দেবে। এই প্রার্থী তালিকা জেলা ও উপজেলা শাখার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক অথবা আহ্বায়ক ও যুগ্ম-আহ্বায়কদের যৌথ স্বাক্ষরসহ পাঠাতে হবে।

কেন্দ্রীয়ভাবে আওয়ামী লীগের এ নির্দেশনা কি মানছেন কক্সবাজার জেলা ও মহেশখালী উপজেলার নেতারা সে প্রশ্নও ওঠেছে। কিছু জায়গায় বর্ধিত সভা পর্যন্ত করা হয়নি। কোথাও আবার বর্ধিত সভা করে তৃণমূলের ভোট নিলেও তালিকায় তার প্রতিফলন ঘটবে কিনা স্বয়ং নেতারাও সন্দেহ করেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রার্থী বাছাইয়ে স্থানীয় এমপি ও প্রভাবশালী নেতাদের ব্যক্তিগত চাওয়াকে প্রাধান্য দেয়া হবে এমনটাই তাদের ধারণা।

এতে অজনপ্রিয়, মাদক ব্যবসায়ী বা সুসময়ের দলে ভেড়া লোকেরা প্রাধান্য পাবে কিংবা সেই লক্ষ্যে যাচ্ছে কিনা এমন ইংগিতও পাওয়া যাচ্ছে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলার অবৈধ মাদক চোরাকারবারী পাচারকারী, এদের পৃষ্ঠপোষক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জড়িত সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়। সে জন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উপরও কঠোর নজরধারী প্রশাসনের। যেনো বিতর্কিত কেহ মনোনয়ন না পায়।

৫ ধাপে সারা দেশের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে ১০ মার্চ প্রথম ধাপে ৮৭ উপজেলায় নির্বাচনের তফসিল দিয়েছে ইসি। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ, দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করছে। একইসঙ্গে দলটির তৃণমূলকে প্রার্থীদের তালিকা প্রেরণ করতে নির্দেশ দিয়েছে।

টেকনাফ বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য