২১শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং, ৮ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ই শাবান, ১৪৪০ হিজরী

পাহাড়ে ফুল বিজু দিয়ে উৎসব শুরু

Friday,12 April 2019

teknafbarta24.com

পানিতে ফুল ভাসিয়ে দিয়ে বিজু উৎসবের সূচনা করছেন তরুণীরা।

পাহাড়ের তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু, বিহু উৎসব শুরু হচ্ছে শুক্রবার থেকে।

বাংলা বর্ষের শেষ দু’দিন ও নতুন বছরের প্রথম দিন এই উৎসব পালন করে থাকে পাহাড়ে বসবাসরত আদিবাসীরা।

পার্বত্য চট্টগ্রামের (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) ১১ ভাষাভাষির ১৫টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আদিবাসী পাহাড়ি জাতিসত্তাদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব হচ্ছে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু, বিহু। উৎসবটির বিভিন্ন নামে পালন করা হলেও এর নিবেদন কিন্তু একই। তাই এ উৎসবটি আদিবাসী পাহাড়িদের শুধু আনন্দের নয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সম্প্রদায়ের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ঐক্য ও মৈত্রী বন্ধনের প্রতীকও বটে। মূলত পুরনো বছরের সব দুঃখ কষ্ট ও গ্লানিকে মুছে ফেলে দিয়ে নতুন বছরের নব উদ্যোগের শুভ কামনা করা হল এ উৎসবের মূল উদ্দেশ্য।

শুক্রবার উৎসবের প্রথম দিন ফুল বিজু। এ দিন ভোরে পানিতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এদিনে শিশু-কিশোর-কিশোরীরা খুব ভোরে ঘুম থেকে  উঠে বনফুল সংগ্রহ করে বাড়ির অঙ্গিনা সাজায় ও তরুণ-তরুণীরা পাড়ায় পাহাড় বৃদ্ধদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্নান করায়। আদিবাসী মেয়েরা বাড়ি-ঘর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে।সন্ধ্যায় বৌদ্ধ মন্দির, নদীর ঘাট, বাড়িতে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। এছাড়া এ দিন নানান খেলাধুলা ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শনিবার উৎসবের দ্বিতীয় দিন মূল বিজু। এ দিনে বাড়িতে বাড়িতে চলে খাওয়া-দাওয়ার পর্ব ও আনন্দ-ফূর্তি। বিভিন্ন রকমের সুস্বাদু খাবার বাড়িতে আসা অতিথিদের পরিবেশন করা হবে।

উৎসবের তৃতীয় দিন রোববার ‘গজ্যাপজ্যা বিজু’। এ দিন পাহাড়িরা সারাদিন ঘরে বসে বিশ্রাম নেয়। বৌদ্ধ মন্দিরে প্রার্থনা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে এসে খাওয়ানোসহ আর্শীবাদ নেওয়া হয়।

অন্যদিকে মারমা সম্প্রদায় এদিন ঐতিহ্যবাহী পানি খেলার আয়োজন করে থাকে। তারা পানি খেলার মাধ্যমে পুরনো বছরের সমস্ত গ্লানি ও দুখঃ-কষ্টকে দূর করে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়।

সূত্র : সমকাল

টেকনাফ বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য